রাজশাহীতে সবচেয়ে ভালো লুচির দোকান
বাঙ্গালির সকালের নাস্তা বা জল খাবার হিসেবে লুচি তরকারি বা মিষ্টি দিয়ে লুচি
হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী খাবার।ছোট-বড়,আমজনতা সবার কাছে লুচি খুবই মুখোরোচক
খাবার।
রাজশাহীর লোকাল জনগনের কাছে তাই লুচি খুবই জনপ্রিয়। তারই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীর
হোটেল -রেস্তোরায় সকাল বা বিকালের নাস্তায় লুচি বিক্রি হতে দেখা যায় ।আলোচিত
ব্লকের মাধ্যমে সবচেয়ে ভালো মানের লুচির বিভিন্ন দোকান নিয়ে আলোচনা করা হবে ।
পেইজের সূচিপত্রঃ রাজশাহীতে সবচেয়ে ভালো লুচির দোকান
লুচির ইতিহাস
লুচি একটি হিন্দি শব্দ হলেও খাদ্য রসিক বাঙালির পাতে এটি হাজার বছর ধরে
তৃপ্তি জুগিয়ে চলেছে । ইতিহাসের পাতায় সর্ব প্রথম পাল আমলে লুচির কথা জানা যায় সে
হিসেবে লুচি অবশ্যই হাজার বছরের একটি পুরাতন খাবার । বিশেষ করে হিন্দু সমাজের
উৎসব পার্বনে লুচি ছাড়া ভাবা যায়না । তবে বাঙালি সমাজে লুচি পর্তুগীজদের আগমনের
পরে সবচেয়ে বেশি সহজলো্ভ্য হয়ে ওঠে গম আমদানি ফলে।ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে
লুচির বিভিন্ন আকারের হয়ে থাকে।এর ঠিক নির্দিষ্ট আকার কখন ছিল না ।তবে ইতিহাসের
পাঠ থেকে জানা যায় দিনাজপুরের কান্তজির মন্দিরের লুচি এক প্রকার থালার আক্ররতির
ছিল।পশ্চিমবাংলার পুর্ব থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লুচি কখন ছোট ছোট পুরির
আকারের আবার কখন বড় বড় ফুলকো আকৃতির দেখা যায়।
রাজশাহীর লুচি
রাজশাহীর মানুষ অনেক বেশি ভোজন রসিক।দক্ষিনবঙ্গের তুলনার রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গে
লুচির প্রচলন বেশি।রাজশাহীর ঘরে ঘরে গোল ফুলকো লুচির পাশাপাশি তিনকোনা লুচিরও
প্রচলন রয়েছে। জামাই ও অতিথি আপ্যায়নে রাজশাহীর মানুষ লুচি-মাংস,লুচি-আলুর দম ,
লুচি-বুন্দিয়া বা বিভিন্ন তরকারি ও মিষ্টি পরিবেশন করে থাকে।নিচে রাজশাহীর
বিভিন্ন সুপরিচিত হোটেল-রেস্তোরার লুচি সম্পর্কিত তথ্য উল্লেখ করা হল।
জোড়াকালি মিষ্টান্ন ভান্ডারের লুচি
প্রায় দেড়শত বছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী লুচির দোকান রাজশাহীর মালোপাড়ায় অবস্থিত
জোড়াকালি মিষ্টান্ন ভান্ডার।বাহারী মিষ্টির পাশাপাশি উক্ত দোকানি শতবর্ষব্যাপী
সগৌরবে পরিবেশন করে আসছে লুচি তরকারি, বুটের ডাল।স্বল্প মূল্যে সর্ব স্তরের
ক্রেতার পছন্দের শীর্ষে রয়েছে জোড়াকালির লুচি।খুব ভোর থেকে বেলা পর্যন্ত দোকানে
ভীড় লক্ষ্যওকরা যায়।জায়গা পাওয়ার জন্য ক্রেতাদের মাঝে দীর্ঘ লাইন অপেক্ষা করা
লাগে।রাজশাহী আসলে তাই সবাই চায় এখানে একবার হলেও সকালের নাস্তা টা সেরে ফেলা।
রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডারের লুচি
১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহীর সাহেব বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রাজশাহী
মিষ্টান্ন ভান্ডার হরেক রকমের মিষ্টির পাশাপাশি সকালে লুচি বুটের ডাল , তরকারি
বিক্রি করে থাকে।রাজশাহীর মানুষের কাছে উক্ত দোকানের লুচিও অনেক জনপ্রিয়।তবে
চাহিদার কারনে খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায় এখানকার লুচির তরকারি । তাই এখানকার
লুচির স্বাদ নিতে চাইলে তাকে অবশ্যই সকাল ১০ টার আগে সেখানে যেতে হবে।
মিষ্টি ঘরের লুচি
রাজশাহীর সাহেব বাজার জিরো পইয়েন্টে অবস্থিত মিষ্টি ঘরের লুচি দাম চেয়ে মানের
নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে ।মাত্র ৩০ টাকায় পাঁচ পিস লুচি ও তরকারি পরিবেশন করে
থাকে।সাথে বুন্দিয়া, রসগোল্লাসহ অন্যান্য মিষ্টিও এখানে পাওয়া যায়।
নিতাই মিষ্টান্নের লুচি
রাজশাহী কোর্ট বাজারে অবস্থিত নিতাই মিষ্টান্নের লুচি খাদ্য প্রেমিদের মুখে নতুন
স্বাদের সঞ্চার দিবে।এখানে বড় বড় লুচির সাথে হিন্দুদের ঐতিহ্যগত পাঁচ
তরকারির নিরামিষ তারা পরিবেশন করে থাকে যা রাজশাহী শহরে পুরোপুরি নতুন।এছাড়াও
রয়েছে বুন্দিয়া ও অন্যান্য মিষ্টি।
রহমানিয়া হোটেলের লুচি
রাজশাহীর সবচেয়ে পুরাতন হোটেল রহমানিয়ার অন্যত্ম একটি জনপ্রিয় আইটেম লুচি।সকালের
নাস্তায় কি বিকালের নাস্তায় উভয় সমইয়েই হোতেল রহমানিয়ায় লুচির দেখা মিলে।সকালে
হালুয়া, সবজি, বুটের ডাল বা মাংস , গরুর পায়ার সাথে পরিবেশন করা হয় আর বিকালে
এগুলোর পাশাপাশি থাকে গ্রিল, চাপ ও শিক কাবাব।কাবারের স্বাদ ও মানের কথায় কোনো
প্রশ্ন আসবেনা বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ উক্ত রেস্তোরায় খাবার খেয়ে প্রশংসা করেনি তা
হয়নি।
বানেশ্বর বাজারের লুচি
রাজশাহী শহরের বাহিরে উল্লেকযোগ্য লুচির দোকান রয়েছে বানেশ্বর বাজারে।এখানকার
কেশব কিচেনে ঘরোয়া সাদের লুচি আলুর ঘাটি,বুন্দিয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পিঠাও পাওয়া
যায়।তাই গ্রাম্য পরিবেশে লুচির স্বাদ নিতে চাইলে বানেশ্বর বাজারে ঘুরে আসাই যায়
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url